জাহাঙ্গীর আলম(নিজস্ব প্রতিবেদক) : ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তবে এ বিজয়ের নেপথ্যের গল্পে উঠে আসছে আরেকটি নাম টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে ছিলেন সুমন। কখনো কর্মীসভা, কখনো উঠান বৈঠক, আবার কখনো গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয় প্রতিটি ধাপে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সবক্ষেত্রেই ছিল তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক টিম গঠন, কেন্দ্র কমিটি পুনর্গঠন এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ জোরদার করেন। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত কৌশল নির্ধারণী বৈঠক করেছেন, আবার ভোরে বেরিয়ে পড়েছেন প্রচারণায়। শুধু সুমন নন, তাঁর সহধর্মিণীও নির্বাচনী প্রচারণায় দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। নারী ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, উঠান বৈঠক আয়োজন, পরিবারভিত্তিক গণসংযোগ এসব ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের মতে, দম্পতির এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেয়। একাধিক নেতাকর্মী বলেন, সুমন ভাই শুধু নেতা হিসেবে নয়, একজন সংগঠক হিসেবে দিনরাত কাজ করেছেন। ভাবীও পাশে থেকে সাহস ও শক্তি জুগিয়েছেন। এই জয় তাদের ত্যাগ ও শ্রমের স্বীকৃতি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর-২ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধান শুধু রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার ফল নয়; এটি সংগঠিত ও পরিকল্পিত মাঠপর্যায়ের কাজের প্রতিফলন। সুমনের নেতৃত্বে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় ভোটের ফলাফলেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নির্বাচনের পর সুমন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই বিজয় আমাদের সবার। তৃণমূলের প্রতিটি কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। আমার সহধর্মিণীসহ পরিবারের সদস্যরাও পাশে ছিলেন। আমরা চাই এই বিজয় এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগুক। ১২ ফেব্রুয়ারির সেই বিজয় আজও টঙ্গী ও গাজীপুরজুড়ে আলোচনায়। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি যেমন, তেমনি নেপথ্যের কারিগর হিসেবে উঠে আসছেন সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন ও তাঁর সহধর্মিণী।