নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ১৮ মাস পর গাজীপুরের টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ করে ব্যানার টানানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এসময় জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয় বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে টঙ্গীর নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন লেখা একটি ব্যানার টানানো এবং একটি দণ্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়, তবে কারা এটি করেছে তা তারা প্রত্যক্ষ করেননি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের আশঙ্কায় অধিকাংশ নেতা–কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ওই সময় কয়েক দফায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে সেটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যানার এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন। আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়তো সহজ, ভেঙে চুড়ে লুটপাট করা হয়তো সহজ কিন্তু একটি বলিয়ান চেতনাভাস্বর আদর্শ ধ্বংস করার সাধ্য কার? জেনে রেখো যতই হত্যা করো, জন্মাবো আবার, দারুণ সূর্য হবো লিখবো নতুন ইতিহাস। সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানো এবং একটি খুঁটির সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসময় স্থানীয় কৌতূহলী মানুষ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের বক্তব্য, সকাল থেকে পতাকা ও ব্যানার দেখছি, কিন্তু কারা করেছে তা দেখিনি। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো বার্তা পাইনি। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।