জাহাঙ্গীর আলম (নিজস্ব প্রতিবেদক):
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী শাসন ও প্রকৃতিতে অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করছে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’। মঙ্গলবার (৩ মার্চ)সকাল ১০টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ মৌজায় উদ্ধারকৃত ৮.২০ একর নিজস্ব জমিতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, এমপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর্কিটেক্ট এস. এম. নাজিম উদ্দিন, গাজীপুর পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, গাজীপুরের ডিআরআরও আওলাদ হোসেন, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন খাঁন, বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ। স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর (ভিপি আসাদ) এবং বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফি উদ্দিন খাঁন। দুর্যোগ

ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ এর ১২(১) ধারার আলোকে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে এ ধরনের কোনো বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই। ১০ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন (প্রথম পর্যায়ে ৩য় তলা পর্যন্ত), ৬ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক হোস্টেল ভবন (প্রথম পর্যায়ে ৩য় তলা পর্যন্ত)। পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনিক ও হোস্টেল ভবনের উল্লম্ব সম্প্রসারণ, বাউন্ডারি ওয়াল, অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল, ইনডোর গেমস সুবিধা, মসজিদ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হতে জুন ২০২৫ মেয়াদে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জিওবি অর্থায়নে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ব্যয় ৫৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকায় সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনিক ও হোস্টেল ভবনের (৩য় তলা পর্যন্ত) নির্মাণের জন্য e-GP পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে আমাদের গবেষণা, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দক্ষ ও আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এই ইনস্টিটিউট সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রকল্পটি দ্রুত ও গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির বিকল্প নেই। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।