জাহিদুল হক (বিশেষ প্রতিনিধি) : চুয়াডাঙ্গার বিস্তীর্ণ আমবাগানজুড়ে এখন বসন্তের হাওয়ায় দুলছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, আর সেই ঘ্রাণেই যেন নতুন স্বপ্ন দেখছেন জেলার হাজারো আমচাষি। প্রকৃতির অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় এ বছর চুয়াডাঙ্গায় আম উৎপাদনে বড় সাফল্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় ২২.৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২২ কোটি টাকা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই আমগাছে মুকুল এসেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। মুকুল রক্ষা করতে নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ এবং বাগানের পরিচর্যায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। কারণ, এই মুকুলই তাদের সারা বছরের আশা-ভরসা। অনেক কৃষকের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আমগাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিরিক্ত ঝড় বা বৃষ্টিপাত না হলে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশাবাদী তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, আমের মুকুল থেকে ফলন পর্যন্ত সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। চুয়াডাঙ্গার আম শুধু জেলার চাহিদাই পূরণ করে না, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হয়। ফলে আম মৌসুম ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। শ্রমিক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্যও এটি হয়ে ওঠে আয়ের বড় একটি সুযোগ। সব মিলিয়ে বলা যায়, আমের মুকুলে ভর করে এবার নতুন আশার আলো দেখছেন চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে এ বছরের আম মৌসুম হতে পারে জেলার কৃষি অর্থনীতির জন্য এক বড় সাফল্যের গল্প।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম || বার্তা সম্পাদক: শাকিল মাহমুদ শান্ত || টঙ্গী দত্তপাড়া, জহির মার্কেট, টঙ্গী গাজীপুর ঢাকা। E-mail: editorgrambarta@gmail.com যোগাযোগ : ০১৯১১-২৪৫৮৯৫ | ০১৯১৩-৩৪৪৮১৭ | ০১৭৩১-৬১৬২১৫ | ০১৯৭২-৬১৬২১৫