র্যালি ও আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ
জাহিদুল হক (বিশেষ প্রতিনিধি) :
স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল—এই কথাটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা কতটা স্বাস্থ্য সচেতন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অপুষ্টি, মানসিক চাপ ও পরিবেশ দূষণ আজ আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিবছর ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে এবং আধুনিক বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সভায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত ও কার্যকর হয়ে উঠছে। সূক্ষ্ম রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এসব প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি নিরাপদ পানি, পুষ্টিকর খাদ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবায় এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাজেট ও জনবলের ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত মাত্রায় সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০.৩ জন, যা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ালে অনেকাংশে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা।আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. শামীমা ইয়াসমিন, নার্সিং সুপারভাইজার রেহানা পারভীনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্স ও গণমাধ্যমকর্মীরা।