জাহিদুল হক (বিশেষ প্রতিনিধি) : চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকায় নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে অপহরণ ও আটকের ভুয়া নাটক সাজিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত পাঁচজন এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
শনিবার (২ মে) রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীরা দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারকরা বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। এরপর ‘আপনার ছেলেকে আটক করা হয়েছে’ বা ‘অপহরণ করা হয়েছে’ এমন কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ফোন কল কেটে দিতে না দিয়ে দ্রুত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন জানান, শনিবার রাতে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে তার ছেলে অমিওকে আটকের কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। একইভাবে দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু বলেন, তার ছেলেকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। রামনগর এলাকার শরিফ উদ্দিন জানান, ডিবি পরিচয়ে তার ছেলে আব্দুল আল শাফিকে আটকের কথা বলে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যার মধ্যে ১১ হাজার টাকা তিনি পাঠান। এছাড়া দর্শনা রেলবাজারের এক বিকাশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কৌশলে ২৫ হাজার ৫ শত টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। অপরদিকে পুরাতন বাজারের এক ব্যবসায়ীর বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে প্রায় ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারকরা নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বর ব্যবহার করে কল দিচ্ছে এবং একাধিক বিকাশ নম্বরে টাকা গ্রহণ করছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য কখনো ফোনে টাকা দাবি করে না। সন্দেহজনক কল পেলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা বা নিকটস্থ থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমেল রানা বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম || বার্তা সম্পাদক: শাকিল মাহমুদ শান্ত || টঙ্গী দত্তপাড়া, জহির মার্কেট, টঙ্গী গাজীপুর ঢাকা। E-mail: editorgrambarta@gmail.com যোগাযোগ : ০১৯১১-২৪৫৮৯৫ | ০১৯১৩-৩৪৪৮১৭ | ০১৭৩১-৬১৬২১৫ | ০১৯৭২-৬১৬২১৫