নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের টঙ্গীতে বাসা ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী মিজানুর রহমানের স্ত্রী সহ ২জন আহত হয়েছে। বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের সময় টঙ্গীর কলাবাগান বস্তি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মিজানের বসত ঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মিজান। অভিযুক্তরা হলেন, আ. রহমান বাবু,কাওছার, শাহাজাহান,আজাদ, রুবেল,শাহীন, আশিক, ফয়সাল, আশরাফুল। তারা সকলেই কলাবাগান বস্তির বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কতিপয় সন্ত্রাসী আ. রহমান বাবু ও কাওছারের সেন্টারে টঙ্গী কলাবাগান বস্তির স্থায়ী বাসিন্দা মিজানের বাড়িঘড়ের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ও বসত ঘরের ভিতর লুটপাট ও ভাংচুর করে। এসময় ভুক্তভোগী মিজানের স্ত্রী শাহীনুর বাঁধা প্রদান করলে তার উপর হামলা চালায় ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। লুটপাট, ভাংচুর ও হামলা করে চলে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। ভুক্তভোগী মিজান জানান, আমার বাসার ভাড়াটিয়া শাজাহানের নিকট কয়েক মাসের বকেয়া সাত হাজার টাকা ভাড়া পাওনা আছি। ভাড়া চাইতে গেলে সে বিভিন্ন সময় দিবো দিচ্ছি বলে নানান তালবাহানা করে । আমি তাকে ভাড়া পরিশোধ করে রুম ছেড়ে দিতে বলি। শাজাহান আগামী মাসের পাঁচ তারিখ অর্থাৎ ফেব্রুয়ারীর পাঁচ তারিখে বকেয়া রুম ভাড়া পরিশোধ করবে বলে রুম ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে মিজান পাঁচ তারিখ পার হয়ে গেলে ভাড়া চাইতে গেলে সে আবারও তালবাহানা করে ও তার কাছে থেকে ভাড়া পারলে তুলে নিতে বলে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটায় শাজাহান স্থানীয় নেতা আ.রহমান বাবু ও কাওছারের সেন্টারে কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রনিয়ে লুটপাট ও ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে আমার বসতবাড়িতে ও দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বসতবাড়ির ভিতর স্টিলের আলমারিতে থাকা টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ও বসতবাড়ির সাথে থাকা দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে। এরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। রাজনীতিকে পুজি করে তারা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে। আমি আইনের কাছে উপযুক্ত বিচার চাই। ভুক্তভোগী স্ত্রী শাহীনুর জানান, আমি আমার পরিবারের তিন সন্তানসহ আমার বসত ঘরে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ রাত আনুমানিক সাড়ে আটটায় আমার বসত টিনসিট ঘরের উপর সন্ত্রাসীরা কৃপায়। পরে তারা জোর করে আমার ঘরে প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাংচুর করে। আমি বাঁধা প্রদান করলে তারা আমার উপর চড়াও হয় ও মারধর করে। আমাকেও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতে আমার ভাগিনা ফাহিম হোসেন বাঁচাতে আসলে তাকেও কিল-ঘুষি ও ধাক্কা মেরে আহত করে। তারা লুটপাট ভাংচুর ও হামলা চালিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আ.রহমান বাবুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে তিনি এ বিষয়ে অবগত নন জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাওছার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মিজানের বাসায় কে বা কারা হামলা করেছে তা আমার জানা নেই, বিষয়টি আমি পরে জানতে পেরেছি, তবে উক্ত বিষয়ে স্থানীয় ৫৫নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা মিমাংসার জন্য বসেছিল সেখানে একটি পক্ষ বিচার না মেনে আমার লোকজনের উপর হামলা চালায়। টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।