নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের টঙ্গীতে অঙ্গিকার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রিপন গং এর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও জনগনের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রিপন গং এর বিচার ও টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী সদস্যরা। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ ঘটিকার সময় টঙ্গী দত্তপাড়াস্থ অঙ্গিকার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কার্যালয়ের সামনে শতাধিক পাওনাদার সদস্যরা এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এ ঘটনায় মাসুম বিল্লাহ নামে একজন আদালতে মামলা করেছেন। মামলার বিবরণ ও গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, সমিতিটি ২০১৩ সালে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন পায় মর্মে একটি ব্যানার টাঙানো অফিস নিয়ে দত্তপাড়ায় সমিতির কার্যক্রম শুরু করে যাহার নিবন্ধন নাম্বার (৩৮৪) অত্র সমিতির সভাপতি ও মামলার আসামী মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন সহ অন্যান্য আসামীরা ২০১৩ সাল থেকে সাধারণ সদস্যদের লোভনীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে টঙ্গীর দত্তপাড়াস্থ অঙ্গীকার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন। আসামীরা উক্ত অফিস চালুর পর থেকেই বিভিন্ন লোকজন এর কাছ থেকে সঞ্চয় ও ঋণদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অত্র মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ বিভিন্ন সময়ে অঙ্গীকার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির কাছে বিভিন্ন সময়ে ১৭০২৬০০/- (সতেরো লক্ষ ছাব্বিশ শত টাকা মাত্র) জমা/সঞ্চয় রাখেন যাহার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রমান অত্র বাদীর কাছে রয়েছে। গত ২৩/০১/২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময়ে বাদী আসামীদের কার্যালয়ে আরো টাকা জমা/সঞ্চয় করতে গেলে অত্র মামলার বাদী আসামীদের অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং লোকমুখে জানতে পারেন আসামীরা বাদী সহ আরো অনেকের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গিয়েছে। বাদী উক্ত আসামিদের আত্মগোপন এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে আলাপ আলোচনা করে। এরি ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে শতাধিক সদস্যরা একত্রিত হয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের সামনে রফিকুল ইসলাম রিপনের শাস্তির দাবি ও পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী সদস্যরা বলেন আমরা অনেক গরিব ও অসহায় মানুষ আবার অনেকেই গার্মেন্টস শ্রমিক। এক গার্মেন্টস শ্রমিক কান্না জড়িত কন্ঠে জানান প্রতি লাখে মাসিক একটা মুনাফার আশ্বাস দিয়েছিলেন সেই আশ্বাসে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্টার্জিত টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন রিপন প্রায় ৩’শ জন সদস্য’র আনুমানিক ২০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। আমরা তার পালানোর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমরা আমাদের জমানো টাকা ফেরত না পেলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কনো উপায় থাকবে না। এসময় ভুক্তভোগীরা জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসার সহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সাথে অবিলম্বে রিপনের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।