জাহাঙ্গীর আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নেতৃত্বে টঙ্গীজুড়ে অনুষ্ঠিত বিশাল গণমিছিল ও নির্বাচনী শোডাউন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী আশরাফ সেতু সংলগ্ন বাটা রোড থেকে শুরু হওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই গণমিছিল টঙ্গী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের অংশবিশেষ প্রদক্ষিণ করে বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গণ মিছিলটি ঢাকা ময়মনসিংহের প্রধান সড়ক ধরে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ও গাজীপুরের উদ্দেশ্যে প্রদক্ষিণ করে। ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত এই গণমিছিলে প্রার্থী নিজেই নেতৃত্ব দেন এবং এতে গাজীপুর-২ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিপুল জনসমাগমে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনে তারা টঙ্গীতে এমন বিশাল গণজোয়ার আগে দেখেননি। অনেকের মতে এটি রনির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা করছে এবং এই সময়ে জনগণ ভোটাধিকার হরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে একটি মহল অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে এ বিষয়ে নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। রনি আরো বলেন, গাজীপুরের মানুষ এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তব্যে রনি তার পিতা অধ্যাপক মান্নান সাহেবের কর্মজীবন ও গাজীপুরের উন্নয়নে তার অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, অধ্যাপক মান্নান আজীবন শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং গাজীপুরের অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই আদর্শ ও সততার রাজনীতিকে সামনে রেখেই তিনি গাজীপুরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করতে চান।বিএনপি প্রার্থী রনি তার নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হবে, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সহজ ঋণ, সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, শিল্পনগরী গাজীপুরের হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে, পাশাপাশি ভূমিহীন মানুষের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা-টঙ্গী-গাজীপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, গাজীপুরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, যানজট নিরসনে জয়দেবপুর রেলস্টেশনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও ক্রীড়া খাতের সমন্বিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। মঞ্জুরুল করিম রনি আরো বলেন, গাজীপুরবাসীর জীবনমানের বাস্তব পরিবর্তন করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সবার সহযোগিতা ও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় গাজীপুর-২ আসন জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপির এমন বিশাল গণজোয়ার দলটির সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থন ও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির স্পষ্ট বার্তা বহন করে। সব মিলিয়ে, টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত এই বিশাল গণমিছিল শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয় বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।