নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বামী ও সন্তানের টানে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফাল্গুনী রায়। কিন্তু সেই সফর শেষ পর্যন্ত তার জীবনে বয়ে আনে দুর্ভাগ্য। পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হন তিনি। পরে আইনি জটিলতায় তাকে আট মাসের বেশি সময় বাংলাদেশের কারাগারে কাটাতে হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে রোববার চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট (আইসিপি) সীমান্ত দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতের গেদে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই মোহাম্মদ তুহিন জানান, গত বছরের জুন মাসে বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন ভারতের নাগরিক ফাল্গুনী রায়। তিনি প্রথমে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি এলাকায় তার স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি পারিবারিক সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রথম স্বামী তাকে মারধর করে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে অসহায় অবস্থায় ফাল্গুনী রায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিছুদিন পর কোনো উপায় না দেখে পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে গেলে মহেশপুর এলাকায় ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে আটক করেন। এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মহেশপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তাকে চার মাস পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেন। তবে দুই দেশের অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সাজা শেষ হওয়ার পরও তাকে মোট আট মাস ১০ দিন কারাগারে থাকতে হয়। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে যাচাই-বাছাই শেষে গত ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় দূতাবাস তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ছাড়পত্র দেয়। পরে জানুয়ারির মধ্যভাগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা আইসিপি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ফাল্গুনী রায়কে ভারতের গেদে সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এনজিও এবং মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।