নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারী) এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান–০১: ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশন-এর জেলা কার্যালয়, বাগেরহাটের উদ্যোগে শরণখোলা উপজেলা এলাকায় ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিযোগে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জনাব মাহমুদুল হাসান নামে এক ব্যক্তি এমবিবিএস ডিগ্রী ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। অভিযানকালে তার চেম্বার (বাদল মার্কেট, পাঁচ রাস্তার মোড়, শরণখোলা) থেকে রোগীদের প্রদত্ত একাধিক প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করা হয়। প্রেসক্রিপশনসমূহে বিভিন্ন ওষুধ লিখন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুপারিশের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার উল্লেখিত এমবিবিএস সনদের সত্যতা প্রমাণে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অনুমতি রয়েছে; কিন্তু প্রেসক্রিপশনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুপারিশ করে তিনি এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছেন। অভিযানকালে ভুয়া সনদসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশপূর্বক কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযান–০২: বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ
অপরদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল, মিরপুরে ভুয়া সনদে চাকরি গ্রহণসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং বিআরটিএ ঢাকা বিভাগ ও প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম জানিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।