নিজস্ব প্রতিবেদক : চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে আহত হয়ে জামায়াতের ইউনিয়ন আমিরের ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ। নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) বাঁকা ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই। তিনি জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক ছিলেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার উদ্দেশ্যে নেওয়া হলে রাস্তার ভেতর তার মৃত্যু হয়। জামায়াতের আহত অন্যরা হলেন খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তারা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আহতরা হলেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত নেতা মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি সোলাইমান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পর একই গ্রুপভুক্ত বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে পূর্বেও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই শনিবারের এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। ইফতারের পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট পর পুনরায় বাজারে জড়ো হলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। রোববার সকালে ওসি জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে হলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।