নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরীর চাচা এবং একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। তারা ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার পর জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শরীফকে আটক করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে জামিলাদের বাড়িতে যান। ওই সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকায় তিনি জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। কিশোরী বাধা দিয়ে তাকে চড় মারলে শরীফ অপমানিত হয়ে সেখান থেকে চলে যান। এর কয়েকদিন পর শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে তিনি পুনরায় ওই বাড়িতে যান। পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে গেলে সুফিয়া খাতুন তাকে তিরস্কার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ ঘরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করেন। পরে চিৎকার করলে জামিলাকেও আঘাত করেন। দুজনেই গুরুতর জখম হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ ঘটনার বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দেন। পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নৃশংস দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।