জাহিদুল হক (বিশেষ প্রতিনিধি) : চুয়াডাঙ্গায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন করে বন্য খরগোশ শিকার ও হত্যার দায়ে চারজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের কেরু অ্যান্ড কোম্পানীর মাঠ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলীর ছেলে সাদগার আলী, সাধুমন্ডলের ছেলে শুকুমার মন্ডল এবং মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস। অভিযানে মোট ১১টি বন্য খরগোশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫টি জীবিত এবং ৬টি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত খরগোশগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। জানা যায়, বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি এবং বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুর কাছে খবর আসে, প্রায় ১৬ জনের একটি শিকারী দল ওই এলাকায় বন্য খরগোশ শিকারে লিপ্ত রয়েছে। খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা এলাহীকে অবহিত করেন। পরে বন বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হলে অধিকাংশ শিকারী পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য করে বন্যপ্রাণী শিকারের অপরাধে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার বা অবৈধভাবে আটকে রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেরু অ্যান্ড কোম্পানীর মাঠ এলাকায় বন্য খরগোশ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে পরিচিত। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু শিকারীর কারণে এই প্রাণীগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। অভিযানকালে সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, রিয়াজ উদ্দীন, সাহাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।