নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর তুরাগ থানায় চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার দিকে অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম তার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে যাত্রী বহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।
এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তুরাগ থানা এলাকায় একটি লেকের পানিতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সাইফুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ লেকের পানিতে ফেলে দেয় এবং তার অটোরিক্সাটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে র্যাব-১ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন মোঃ শহীদুল ইসলাম (৩৪)-কে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন স্ট্যান্ড ওভারব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ভবনের সামনে থেকে স্বপন শেখ ওরফে কবির শেখ (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, বাবুল, নাইম, সোবাহান, ইয়াছিন, শহীদুল, স্বপন ও নার্গিস এই সাতজন মিলে পরিকল্পিতভাবে অটোরিক্সা চালক সাইফুল ইসলামকে ভাড়া করে তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া পুলিশ বক্স সংলগ্ন কাঁচাবাজার এলাকায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে ভিকটিমকে অচেতন করা হয়। পরে ইয়াছিন ভিকটিমের অটোরিক্সাটি চালিয়ে নেয় এবং অন্য সহযোগীরা সাইফুলকে তুরাগ থানাধীন ১৬ নম্বর সেক্টরস্থ একটি লেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে দেয়। র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাবুল ভিকটিমের অটোরিক্সা বিক্রি করে শহীদুলকে ৭ হাজার টাকা এবং স্বপনকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা প্রদান করে। মামলার অন্যান্য আসামী বাবুল, নাইম, সোবাহান ও নার্গিস ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।