নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের টঙ্গীতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘জাভান হোটেল’-এর মালিক শেখ বাদল আহমেদ (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানার মামলা নং-১২০৯ (তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬)-এর প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গাজীপুরের বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ বাদলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-সহ বিভিন্ন গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ বাদল টঙ্গীর বহুল আলোচিত ‘জাভান হোটেল’-এর মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। হোটেলটিকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও র্যাব বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ও সন্দেহভাজন কার্যকলাপের বিষয়ে তদন্ত করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এসব অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সব সময় প্রকাশ্যে আসেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ ‘জাভান হোটেল’-কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয় যুবসমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই দাবি করেন, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়া শেখ বাদল নিজেকে প্রবাসভিত্তিক একটি সংগঠন ‘জার্মান আওয়ামী লীগ’-এর সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে শেখ বাদল গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং তার ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন। পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তাকে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে জেল হাজতে রাখা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।